দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তামিলনাড়ু বিধানসভায় গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে ১৪৪টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। তাঁকে সমর্থন দিয়েছে আইইউএমএল, কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং এআইএডিএমকের একটি বিদ্রোহী অংশ। অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ২২টি। এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকের ৫৯ জন বিধায়ক ভোটাভুটির আগেই সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। ৫ জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত ছিলেন। খবর: হিন্দুস্তান টাইমস
আস্থা ভোটের একদিন আগে থেকেই অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে) শিবিরে ভাঙনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। দলের প্রধান এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) নেতৃত্বের বিরোধিতা করে এস পি ভেলুমানি ও সি ভি শানমুগামের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন বিধায়ক বিজয় সরকারকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। পালানিস্বামীর বিরুদ্ধে ডিএমকের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন বিদ্রোহীরা।
জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন পালানিস্বামী। দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সি ভি শানমুগাম, এস পি ভেলুমানি এবং সি বিজয় ভাস্করের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এআইএডিএমকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেওয়ায় ২৪ জন বিধায়কের পদ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।
দলীয় পদ হারানোর কয়েক ঘণ্টা পর সি ভি শানমুগাম বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি। পালানিস্বামী গত চার বছরে শুধু বহিষ্কারের রাজনীতিই করেছেন। যারা তাঁকে প্রশ্ন করে, তাদেরই তিনি সরিয়ে দেন। তাঁর দেওয়া বিবৃতির কোনো ভিত্তি নেই এবং তিনি এআইএডিএমকের আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিজয় ডিএমকেকে ‘অহংকারী’ বলে আখ্যা দেন। ডিএমকের সংখ্যালঘু সরকারের যুক্তির জবাবে তিনি বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ জানে যে টিভিকে এককভাবে লড়ে ৩৪.৯২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যেখানে ডিএমকে জোট ছাড়া পেয়েছিল মাত্র ২৪.১৯ শতাংশ। আমরা ডিএমকের চেয়ে প্রায় ৫৩ লাখ ভোট বেশি পেয়েছি। অহংকারী ডিএমকে বাস্তবতা বুঝতে চায় না।’
এদিকে ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান দাবি করেছেন, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে উভয় দলই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। মূলত বিজয়কে ক্ষমতায় আসা থেকে আটকাতে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল জোট গড়তে চেয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।
জ্যোতিষীকে নিয়োগ ও সমালোচনার মুখে পিছুটান: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই বিজয় মন্দির, স্কুল ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭০০টিরও বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে নিজের জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে স্পেশাল ডিউটি অফিসার (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। মিত্রপক্ষ ভিসিকেসহ বিরোধীদের প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ওই জ্যোতিষীকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় তাঁর প্রশাসন।
কেরালায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করল কংগ্রেস: কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের বিশাল জয়ের পর ৯ দিনের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা, দীর্ঘ আলোচনা ও ম্যারাথন পরামর্শ শেষে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে কংগ্রেস। গতকাল দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকের পর দলটির সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, আলোচনা শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ ঘোষণা করা হবে।
জয়রাম রমেশ বলেন, কেরালা কংগ্রেস বিধানসভা দলের (সিএলপি) সদস্যদের ক্ষমতাবলে দলীয় হাইকমান্ড সব ধরনের আলোচনা সম্পন্ন করেছে। কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার জানানো হবে।
কে